আমিনপুর থানা পুলিশের এস আই’র ক্ষমতার দাপট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা

0
35

বেড়া সংবাদদাতা:দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনায় পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে সুবিচারের জন্য আবেদন জানিয়েছেন আমিনপুর বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী। গেল ১১ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে ওই ব্যবসায়ী পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন। অভিযোপত্রে চাঁদাবাজীর অভিযোগ করেছেন আমিনপুর থানা পুলিশের এক এস আই’র বিরুদ্ধে।

পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর বাজারে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশের এস আই। এমন অভিযোগ ভূক্তভোগী মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সীর। ভয়ে গ্রাম ছাড়া ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম মুন্সী বলেন, আমিনপুর থানায় কর্মরত এস আই ইউসুফ এলাকায় টাইগার ইউসুফ নামে পরিচিত। এই পুলিশ সদস্যের ভয়ে তটস্থ থাকতে হয় সাধারণ মানুষকে। অভিযোগ রয়েছে, কখনো মিথ্যা মামলার আবার কখনো থানায় আটকে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত এই এস আই। টাকা না দিলে এমন মামলায় তাকে দেয়া হবে যে, সে পাবনার আদালত থেকে কোনদিনই জামিন নিতে পারবে না বলে শাসিয়ে দেয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় চার মাস আগে এস আই ইউসুফ মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সির কাছে আমিনপুর থানার মুন্সি কামরুল ইসলামের মাধ্যমে প্রথমে ৬০ হাজার পরে দুই লাখ টাকা দাবী করে। সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে সে যাত্রায় রক্ষা পেলেও স¤প্রতি আবারও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এস আই ইউসুফ। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ২ সেপ্টেম্বর এস আই ইউসুফ নিজে একটি তালা কিনে এনে উক্ত ব্যবসায়ীর দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তালা দেয়ার আগে দোকানে থাকা রফিকুল মুন্সির ৭০ উর্দ্ধ বয়স্ক বৃদ্ধ পিতাকে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে দোকান থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেয়। রফিকুল ইসলাম মুন্সির পিতা ধনি মুন্সী বলেন, ২ সেপ্টেম্বর এস আই ইউসুফ আমাকে জোর করে দোকান থেকে বের করে নিজ হাতে তালা লাগিয়ে দেয়। কারন জানতে চাইলে এস আই ইউসুফ আমার ছেলে রফিকুল ইসলাম মুন্সীকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলে। যাওয়ার সময় সে হুমকি দিয়ে যায় টাকা না দিলে স্থায়ী ভাবে দোকান বন্ধ করে দেয়া হবে।

আমিনপুর বাজার সমিতির সাবেক সভাপতি সেলিম মিয়া বলেন, কোন পুলিশ সদস্য একজন ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারেন না। যদি সেই দোকানে অবৈধ কিছু থাকে তবে একজন ম্যাজিষ্ট্রেট , বাজার কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তা করতে হয়। আর রফিকুলের বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ থাকলে বাজার কমিটি এতদিন অবশ্যই ব্যবস্থা নিতো। সে এলাকার একজন ভালো ব্যবসায়ী। মন্দ কিছু করলে তো এখানকার ব্যবসায়ীরাই তাকে ধরতো। কাজটি পুলিশ সদস্যের অন্যায় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আমিনপুর বাজারের এক দোকানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রফিকুলের কাছে চাঁদা দাবীর কথা এলাকার সবাই জানলেও এস আই ইউসুফের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে এস আই ইউসুফ যা করেছে তা অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
আমিনপুর থানার অভিযুক্ত এস আই ইউসুফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।

এ বিষয়ে আমিনপুর থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ কোন ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দিতে পারে না। পুলিশ জনগনের খাদেম। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যদি প্রমান পাওয়া যায় যে কোন পুলিশ সদস্যের কারনে জনগনকে হয়রানীর স্বীকার হতে হচ্ছে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here