চিকিৎসা সেবায় পদবি জটিলতা

0
32

শফিউল আযম ঃ
আদিকাল থেকেই মানুষ তার চিকিৎসার জন্য ডাক্তার/কবিরাজ/ওঝাদের কাছে গিয়ে সেবা নিয়ে থাকে। পৃথিবীর বয়স বাড়ার সাথে সাথে চিকিৎসা বিদ্যা ক্রমান্বয়ে আধুনিক হতে থাকে। শুরু হতে থাকে চিকিৎসার ধরণ, যেমন-এ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, আর্য়ুবেদিক ইত্যাদি। চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সবদেশেই চিকিৎসক তৈরি করা হয় যা সেই দেশের আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আইনের বাইরে কেউ কোন ওই সেবা প্রদান করলে আইনের চোখে তা দন্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। বাংলাদেশে চিকিৎসক তৈরির জন্য রয়েছে কয়েকটি স্তর। যেমন-গইইঝ, ইউঝ এবং উ.গ.ঋ (উরঢ়ষড়সধ রহ গবফরপধষ ঋধপঁষঃু) উগঋ এখন চার বৎসর মেয়াদী কোর্স।
গইইঝ এবং ইউঝ নিয়ে জনগণের মধ্যে কোন ভুলভ্রান্তি নাই। কিন্তু উ.গ.ঋ সনদধারী ডিপ্লোমা চিকিৎসক নিয়ে কখনও কখনও ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হতে দেখা যায়। কারণ, অনেকে প্রশ্ন করেন, সনদধারীরা কি বৈধভাবে নামের পূর্বে ডাক্তার লিখতে পারেন ? লজিক্যালি এবং আইনগতভাবে বলা যায় যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে যে মেডিকেল ডিগ্রি/ডিপ্লোমা সম্পন্ন ব্যক্তি/গোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত কিনা ? তাহলে, দেখা যাক, “উ.গ.ঋ সনদধারী গোষ্ঠী” বর্তমানে “উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার” হিসাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকুরী করিতেছে। এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল দ্বারা তারা নিবন্ধিত। দেখা যাক, বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, ডিসেম্বর-২০, ২০১০ কি বলে, ২০১০ সনের ৬১নং আইন। মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ১৯৮০ রহিতক্রমে কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
উক্ত আইনের ১৫নং-এ বলা হয়েছে, (১) বাংলাদেশে অবস্থিত বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন মেডিকেল প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত, ৩ (তিন) বৎসরের কম নহে এরূপ সময় ব্যাপী ; মেডিকেল চিকিৎসা-প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর উক্ত মেডিকেল চিকিৎসা ডিপ্লোমাধারী মেডিকেল সহকারীগণ এই আইনের অধীন কাউন্সিল কর্তৃক নিবন্ধিত হইবার যোগ্য হইবেন। ১৫ (৪) উপধারা (১) এর অধীন নিবন্ধিত মেডিকেল সহকারীগণ কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালার অধীনে মেডিসিন, সার্জারী এবং মিডওয়াইফারী পেশায় নিয়োজিত থাকিতে পারিবেন।
সুতরাং উ.গ.ঋ সনদধারী “উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার” গণ আইনগতভাবে উল্লিখিত আইন অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করিয়া থাকেন। এবং উ.গ.ঋ সনদধারীগণ ই.গ.উ.ঈ কর্তৃক নিবন্ধিত। উপরন্ত বাংলাদেশ গেজেট, অক্টোবর ১৭, ১৯৮৫ অনুযায়ী, গরহরংঃৎু ড়ভ ঐবধষঃয ্ চড়ঢ়ঁষধঃরড়হ ঈড়হঃৎড়ষ (ঐবধষঃয ডরহম), গঊঐ ংবপঃরড়হ, ঘড়ঃরভরপধঃরড়হ, উযধশধ, ঃযব ১০ঃয ঝবঢ়ঃবসনবৎ ১৯৮৫-তে বলা হয়েছে, ফ. ঞযব গবফরপধষ অংংরংঃধহঃ রং ধষষড়বিফ ঃড় রংংঁব পবৎঃরভরপধঃব ড়ভ রষষহবংং ্ পবৎঃরভরপধঃব ড়ভ সরহড়ৎ রহলঁৎরবং ড়হষু.
তাহলে দেখা যায় যে, উ.গ.ঋ সনদধারীগণ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধ চিকিৎসক। ওই সনদধারীগণ ই.গ.উ.ঈ হইতে নিবন্ধিত হইয়া চিকিৎসা সেবা প্রদান ও মেডিকেল/ইনজুরি সার্টিফিকেট প্রদান করিয়া আসিতেছে। তারা নামের পূর্বে ডাক্তার (ডাঃ) শব্দ ব্যবহার করিলে কেন আইনের চোখে দন্ডনীয় অপরাধ হইবে ? প্রাইমারী, হাইস্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পাঠদান করান তারা সবাই “শিক্ষক”। সেটা কি আমরা অস্বীকার করতে পারি ? তাহলে ই.গ.উ.ঈ থেকে রেজিঃপ্রাপ্ত উ.গ.ঋ সনদধারীগণ কেন নামের পূর্বে ডাক্তার (ডাঃ) লিখতে পারবেন না ?
বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় উ.গ.ঋ সনদধারী ডিপ্লোমা চিকিৎসক নামের পূর্বে “ডাঃ” ব্যবহার নিয়ে একটি মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় সেই ১৯৮০ সাল থেকেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে জনাব সকল ”ডিপ্লোমা চিকিৎসক” গণের পক্ষে ডাঃ সামসুল হুদা, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাটমাংগাসী, সিরাজগঞ্জ ২০১৩ ইং সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিট নং-২৭৩০, সাল ২০১৩ ইং।
মহামান্য হাইকোর্ট উভয়পক্ষের যুক্তি/তর্ক শুনানীর পর এই রায় দেন যে, সনদধারী মেডিকেল প্রাক্টিসের সময় তাদের নামের পূর্বে “ডাঃ” ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট কেউ তাদেরকে গ্রেফতার বা, হয়রানি করতে পারবে না। মহামান্য হাইকোর্ট এই আদেশ তিন (০৩) মাস পর পর বর্ধিত করতে থাকেন। পরিস্থিতি/পরিবেশ বিবেচনায় এতে, ০৯/১১/২০১৫ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট এই মর্মে আদেশ দেন যে, ঞযব ফরৎবপঃরড়হ মৎধহঃবফ বধৎষরবৎ নু ঃযরং পড়ঁৎঃ রং যবৎবনু বীঃবহফবফ ভড়ৎ ঃরষষ ফরংঢ়ড়ংধষ ড়ভ ঃযব ৎঁষব.
উপরে উল্লিখিত মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক সুনামগঞ্জ ও পাবনা জেলায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত সাজা (অর্থ দন্ড) স্ব স্ব জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কর্তৃক রদ/রহিত করা হয়। এক প্রশ্নের জনাব. ডাঃ এম. সাহিদুর রহমান বাবু, সভাপতি, কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ, ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বলেন যে, উ.গ.ঋ সনদধারী ডিপ্লোমা চিকিৎসাগণ ই.গ.উ.ঈ থেকে রেজিষ্টার্ড। আইনতগতভাবে তারা রোগী দেখা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা দেয়া ও মেডিকেল/ইনজুরী সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। তাই, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সকলকেই সঠিকভাবে মান্য করা ও বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মনে করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here