জিয়া পরিষদের সভাপতি বাবলুর ইন্ধনেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে মানিক

0
185

বিশেষ প্রতিনিধি:সম্প্রতি বাংলা মদ সহ আটক ভাঙ্গুড়া উপজেলার কথিত সাংবাদিক মানিক হোসেন কে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে মর্মে কিছু স্থানীয় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদে প্রকাশিত ভুল তথ্যের বিপরীতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হল।

 মানিককে দৈনিক খোলা কাগজের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি দাবী করা হলেও শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাবে মূলত ঐ পত্রিকার কোন নিয়োগ তার ছিল না। বিষয়টি নিশ্চিত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ । এছাড়া মানিকের পিতা ইসমাইল হোসেনকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করা হলেও তিনি আসলে তা নন। বিএনপি সরকারের সময় কৌশলে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নিজের নাম সংযুক্ত করে ভাতা ভোগ করতেন। বেশ কিছুদিন আগে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে তার জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পরলে তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এমনটাই জানিয়েছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোকছেদুর রহমান। তার এই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম পুনরায় সংযুক্ত করতেও প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবলু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কমান্ডারকে বিভিন্ন সময় তদবীর করেছেন।
মাদক সহ আটক হওয়ার পরে তাকে খবরে ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালক বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। মূলত তার সাথে থাকা দুইজনকে যাত্রী বলা হলেও তারা একই গ্রামের বাসিন্দা। খবরে তাকে ইলেকট্রিশিয়ান উল্লেখ করা হলেও এই নামে ভাঙ্গুড়াতে কোন নিবন্ধিত ইলেকট্রিশিয়ান নেই বলে জানিয়েছেন পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভাঙ্গুড়া জোনাল অফিস।
চাটমোহর থানা পুলিশের বরাতে জানা যায়, চলতি মাসের ৬ অক্টোবর চাটমোহরের একটি দূর্গা মন্দিরে কয়েকজন মাতাল গিয়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের মারধর করে। ফলে চাটমোহর থানা পুলিশ মাদক বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়। ৭ অক্টোবর রাতে ধারাবাহিক চেক পোষ্টে থাকা চাটমোহর থানার উপ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জারদিস মোড় এলাকায় মানিক ও তার সাথে থাকা দুই জনকে সন্দেহমুলক আটক করে তাদের ব্যাগ তল্লাসি চালিয়ে বাংলা মদ ভর্তি ১৫টি বোতল উদ্ধার করে। অবস্থা বেগতিক দেখে সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাদেরকে থানা  হেফাযতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত স্থানীয়দের আলোচনা সমালোচনায় বিষয়টি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মানিকের জামিন করাতে বাবলুর নির্দেশে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আদালতে দৌড়াদৌড়ি করছেন।
সাংবাদিক বাবলুর ইন্ধনে মোটর মেকানিক মানিকের সাংবাদিক হয়ে ওঠার গল্প !!!
ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিনের নির্বাচন বিহীন স্ব-ঘোষিত সভাপতি বর্তমান সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত সহকারি অধ্যাপক ও বিএনপি’র অঙ্গ সহযোগী সংগঠন জিয়া পরিষদের ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার সভাপতি এবং মুসলিমলীগের তৎকালীন নেতা গিয়াস উদ্দিনের পুত্র মাহবুবুল আলম বাবলু।
আওয়ামী লীগ সরকার এত দিন ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও চাটুকারিতা ও তোষামোদের মাধ্যমে নিজের পদ বজায় রেখে চলেছেন তিনি। এই সভাপতির পদবী ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি অফিসে নিজে এবং তার স্ত্রীর চাকুরীতে বিশেষ সুবিধা নিয়মিত আদায় করেন এই ব্যক্তি। এমনকি তিনি তার রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে সেনাবাহিনীর উচ্চপদে কর্মরত তার দুই জামাতার প্রমোশনের জন্য তদবির করেন। তার অপকর্মের কিছু নমুনা উল্লেখ করা হল।
এই সভাপতি নিজের চেয়ার সুসংহত রাখার জন্য কোনো নির্বাচন না দিয়ে তৎকালীন প্রেসক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত প্রথম আলোর সাংবাদিক (মাননীয় সাংসদ মকবুল হোসেনের কনিষ্ঠ শ্যালক) মুকুল, দৈনিক করতোয়া ও দৈনিক আজকের কাগজের প্রতিনিধি ও প্রবীণ সাংবাদিক বিকাশ কুমার চন্দ, যায়যায়দিন পত্রিকার তৎকালীন প্রতিনিধি অধ্যাপক মতিউল ইসলাম, আলোকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন, নয়া দিগন্ত ও new age পত্রিকার প্রতিনিধি অধ্যক্ষ বদরুল আলম, দৈনিক ভোরের কাগজের প্রতিনিধি আকছেদ আলী, আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান ফারুক, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মাসুদ রানা সহ অনেক সিনিয়র সাংবাদিক কে নিজের প্রতিদন্দ্বী ভেবে পর্যায়ক্রমে কৌশলে প্রেসক্লাবের সদস্য পদ থেকে সরিয়ে নিজের মন মতো কয়েকজন অসাংবাদিক নিয়ে কমিটি করেন। প্রেস ক্লাবে বর্তমানে তার সাথে রয়েছেন উপজেলার বিতর্কিত বেশ কয়েকজন। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ব্যাক্তি হলেন আবুল হাসান সিদ্দিকী হেলাল ও গিয়াস উদ্দিন। মূলত হেলাল, গিয়াস ও মানিকের মাধ্যমেই তিনি সকল অফিসে তার কর্তৃত্ব বজায় রাখতেন।  সম্প্রতি ভাঙ্গুড়ায় অনুষ্ঠিত এসডিজি কর্মশালায় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে মানিক অংশগ্রহণ করে। অথচ মানিকের এসডিজির পূর্ণরূপ বর্ণনা করার ক্ষমতা নেই। ভাঙ্গুড়ার কেউই জানেনা তার লেখাপড়া কতদূর। হেলাল একজন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পাশ্ববর্তি উপজেলা ফরিদপুর টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে আছেন। নিজেক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ও সভাপতির প্রভাব খাটিয়ে দুটি চাকুরী একই সাথে করে চলেছেন তিনি। অপর দিকে গিয়াস উদ্দিন রয়েছেন ভাঙ্গুড়া মহিলা কলেজের ভুগোল বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে।এর আগে সনদ জালিয়াতি ধরা পরায় সে মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে চাকুরীচ্যুত হয়। পরে আবারও সনদ জালিযাতি করে ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ নেন। পরে বিষয়টি ধরা পরলে প্রেসক্লাবের সভাপিত তাকে রক্ষা করতে সহায়তা করেন। ছয় মাস আগে হেলাল এক নারীকে উত্যক্ত করলে সে বিষয়ে হেলাল কে সহযোগিতা করায় বাবলু সেই নারীর কাছে অপমানিত হন।
গত বছর তার স্ত্রী শরৎনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। সেই সময়  ঐ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হতে উপজেলার আরো পাঁচজন সিনিয়র শিক্ষক আবেদন করেন। কিন্তু এই সভাপতি বাবলু নিজের পদবীর প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষা অফিসকে দিয়ে অন্য পাঁচজন সিনিয়র শিক্ষকের আবেদন প্রত্যাহার করাতে বাধ্য করেন। এছাড়া তিনি নিজে বিএনপি’র নেতা হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন অফিসে বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সুবিধা করতে না পারলে মানিক, হেলাল ও গিয়াসকে পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে  কৌশলে ভয়ভীতি দেখান।
 এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই বছর আগে ভাঙ্গুড়া বড়াল মাঠে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতির নাম করে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এই মানিক। পরে আওয়ামী লীগের লোকজন তাকে বেদম পিটিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে এই সভাপতি বাবলু পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইল রাসেলের মাধ্যমে শালিস করে বিষয়টি মিটিয়ে নেন। তারও পূর্বে এই মানিক পাবনা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে রাস্তার পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে দিনভর বেঁধে রাখে। পরের বছর পাবনায় আয়োজিত বই মেলায় মানিক একটি ঘটনায় পুলিশের হাতে লাঞ্চিত হয়।
এই সভাপতির একসময় পোল্ট্রি ফিড ও ভেটেরিনারি মেডিসিন এর ব্যবসা ছিল। সে সময় তিনি তার কর্মচারী মালেক নামের একজনকে দিয়ে বাসার কাজ করিয়ে নিতেন। ব্যবসায় মন্দা শুরু হলে তিনি কৌশলে তার সহকর্মী অধ্যাপক আবদুস সালামকে ব্যবসায়ের অর্ধেক পার্টনার করে নেন। পরে তিনি আবদুস সালামকে ঠকিয়ে ব্যবসার মূলধন নিজের কাছে রেখে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেন। পার্টনার আব্দুস সালাম এর টাকা ফেরত না দেওয়ায় এই বিষয় নিয়ে তার নিজ কলেজের অধ্যক্ষসহ প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বিভিন্ন সালিশ করেও আব্দুস সালাম সুবিচার পাননি। তার কর্মচারী মালেক ও তার কাছে প্রতারিত হয়েছেন বলে জানা যায়।
এই বিষয়ে তার তৎকালীন ব্যবসায়ী পার্টনার আব্দুস ছালাম জানান, তার প্রভাবের কাছে আমি অসহায়। ব্যবসার সমস্ত লস আমার উপর চাপিয়ে দেয়। এটা মেনে নেয়া ছাড়া আমার করার কিছু ছিল না।
ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই কলেজ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করায় বাসায় কাজের লোকের সংকটে পড়েন। মূলত এই সময়েই তিনি মোটরসাইকেল মেকানিক মানিককে ফুসলিয়ে তার নিজের পেশা থেকে সরিয়ে নিয়ে তার বাসার কাজের লোক হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন।
মানিক মোটর মেকানিকের কাজ বাদ দিয়ে সভাপতির কথায় তার বাসায় কাজ করতে থাকে। বাসায় কাজ করার সুবাদে সে নিয়মিত ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবে যাতায়াত করতে থাকে। একসময় সে এই সভাপতি বাবলুর নিউজ সোর্স হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। এর কিছুদিন পরে মানিক নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে শুরু করে।
এই সভাপতি সম্পর্কে প্রবীণ সাংবাদিক অধ্যাপক মতিউল ইসলাম বলেন, বাবলু জঘন্য একজন ব্যক্তি। এই ব্যক্তির চেয়ে নোংরা মানসিকতার মানুষ ভাঙ্গুড়ায় দ্বিতীয় কেউ নেই। নিজেকে সভাপতির আসনে রাখতে যে কোন কাজ সে করতে পারে। প্রেসক্লাবকে সে নিজের বাবার সম্পত্তি মনে করে।
সম্প্রতি মানিকের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিভিন্ন অনলাইনে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে সেখানে দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল খান বলেন, আমি কোন সংবাদকর্মীর কাছে এই বিষয়ে কোন বক্তব্য দেই নাই। আমার বক্তব্য যদি কেউ লিখে থাকে আমি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ করব।
বাবলু জিয়া পরিষদের সভাপতির বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান বলেন, বাবলু জিয়া পরিষদের কমিটির সভাপতি। এই কমিটির কার্যক্রম তিনিই দেখভাল করেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতা হিসেবে এই বাবলুর বাসা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেন তার শ্যালক পাবনা জেলা বিএনপির নেতা এ্যাডভোকেট মাসুদ খোন্দকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here