পাবনার সাথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কান্ড

0
98

শফিউল আযম ঃ
পানার সাঁথিয়া সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে জমির মালিকানা দাবিতে মামলা ও স্থিতিবস্থার আদেশ দেয়া হলেও তা অমান্য করে রোস্তম আলী এ জমিতে ৫ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন। চলমান মামলা উপেক্ষা করে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারিভাবে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মেপে এক প্রভাবশালী নেতা রোস্তাম আলীকে বুঝে দিয়েছেন। তিনি এখন সেখানে ৫তলা বাণিজ্যিক ভবন সির্মাণ করছেন। এ মামলার বাদি শামসুল হক ঠান্টু অভিযোগ করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনারের কাছে বার বার মামলারও স্তিতিবস্থার কাগজপত্র দেখানো হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি ওই নেতার পক্ষ নিয়ে তাকে জমি বুঝে দেন।
গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, সাঁথিয়া বঙ্গবন্ধু পৌরমার্কেট সম্মুখে দক্ষিণ বোয়াইলমারী গ্রামের শামসুল হক ঠান্টুর পৌত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ডিএস খতিয়ান নং ২০৭, আর এস দাগ নং-১১৬১, দশমিক ৫৩ একর জমির খাজনা খারিজ না দেয়ায় সরকার ‘খ’ তফসীলভূক্ত করে। এই সুযোগে একই গ্রামের নেতা রোস্তম আলী পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ওই জমির মধ্য হতে ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
পরে এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই ঠান্টুগং পৌত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ডিএস ও এসএ রেকর্ডমূলে আদালতে ‘খ’ তফসীল হতে নিজ নামে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সাঁথিয়া সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে মামলা করেন। মামলা নং-১২৫৩/২০২১।এ জমিতে চলমান মামলায় আদালত স্থিতিবস্থা দিলেও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার ভুমি এস. এম জামাল আহমেদ সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপ দিয়ে রোস্তম আলীকে তা বুঝিয়ে দেন। সেখানে রোস্তম আলী ৫তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে মার্কেট নির্মাণ করছেন।
মামলার বাদি শামসুল আলম ঠান্টু অভিযোগ করেছেন, এ জমিতে আদালত কর্তৃক স্থিতিবস্থার কাগজপত্র বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পৌছানো হলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। জমির মালিক শামসুল হক ঠান্টু জানান, এ সম্পত্তি পৌত্রিক সূত্রে ও ডিএস এবং এসএ মূলে তারা মালিক। পরবর্তিতে আরএসএ এসে ছুট হওয়ার কারণে আমরা আদালতে মামলা করেছি। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং ওই জমির উপর আদালত স্থিতিবস্থার আদেশ থাকা স্বত্তে¡ও রোস্তম আলী ইউএনও’র সহায়তায় আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নির্মাণাধীন কাজ করেই চলছেন। এদিকে এ জমির উপর আদালতে মামলা থাকা ও স্থিতিবস্থার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন কি না এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জমির মালিক শামসুল হক ঠান্টু বলেন, এ সম্পত্তি পৌত্রিক সূত্রে ও ডিএস এবং এসএ মূলে তারা মালিক। এ ব্যাপারে রোস্তম আলী জানান সরকার হতে নিলামে জমি ক্রয় করে আমরা ভবন নির্মাণ করছি কারও ব্যক্তিগত জমিতে নয়।
সাথিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, ওই সম্পত্তি নিয়ে সাঁথিয়া সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ওই সম্পত্তির উপর স্থিতিবস্থার আদেশ দিয়েছেন। এ অবস্থায় বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম জামাল আহম্মেদ কোন স্বার্থে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মেপে ৪ শতাংশ জমি রোস্তম আলীকে বুঝে দিলে তা বোধগম্য নয়। ইউএনও আইনের লোক হয়ে কিভাবে আইনই অমান্য করলেন, এটা কি আদালত অবমাননা নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোস্তম আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার ভূমি তার অফিসের সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মেপে আমাকে জমি বুঝে দিয়েছেন। আমি সেখানে ভবন নির্মাণ করছি। অন্যায় কিছু তো করছি না।
এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. জামাল আহমেদকে তার সরকারি(০১৭৬২-৬২১০১৮) ও ব্যক্তিগত (০১৭১৮-০৯৪৮৬৬) ফোনে বার বার চেষ্টা করা হলে ও তিনি ফোন ধরেননি। সোমবার তাকে ম্যাসেজ দেয়া হলে ও তিনি কোন উত্তর দেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here