পাবনার সুজানগরে চকবিলের শত শত বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা নিস্কাশন খাল খনন ও রাস্তা নির্মানের দাবি স্থানীয় কৃষকদের

0
9

শফিউল আযম ঃ
পাবনার সুজানগর উপজেলার পশ্চিম চকবিলের শত শত বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিলের চারপাশে রাস্তা নির্মাণ করায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিলে উৎপাদিত ফসল আনা নেয়ার জন্য স্থানীয় কৃষকদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননসহ সাবমার্জেবল রাস্তার নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিলের পানি নিস্কাশন ও কৃষিজপণ্য আনা নেয়ার জন্য একটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর বিলে খাল খনন কাজ শুরু করা হবে।
জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম চক বিলে জলাবদ্ধতার কারণে আহম্মেদপুর ও রানিনগর এই দুইটি ইউনিয়নের শত শত কৃষক ফসলের মাঠের আইল ধরে মাথায় করে উৎপাদিত ফসল আনা নেয়া করে। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে তারা পরিত্রাণ চায়। শুস্ক মৌশুমে পানির অভাব আর বর্ষায় কচুরি পানাতে ছেয়ে থাকে পুরো ফসলের মাঠ। কৃষকের সমস্যা সমাধানের কৃষি বিভাগের কোন উদ্যোগ নেই। কষ্টের কারনে অনেক কৃষক ধান চাষ না করে শুধু এক ফসল আবাদ করে থাকে। আর এই কারনেই অনাবাদী থাকছে ফসলের মাঠ। এই সুযোগে স্থানীয় একটি চক্র ফসলের মাঠে খনন করছে পুকুর। উপজেলার দুটি ইউনিয়ন ও পাঁচটিটি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক তাদের জমির জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল খননসহ সাবমার্জেবল সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
পাবনা জেলা কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসাবে বেশ পরিচিত। এই অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিজপণ্য বিশেষ করে পেঁয়াজ রসুন দেশের চাহিদার অনেকাংশে পূরণ করে থোকে। এ এলাকার বিলের মাঠগুলোতে পেঁয়াজ, পাট, ধানসহ বিভিন্ন রকমের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। উপজেলার গাজনার বিলের শেষপ্রান্তে আহম্মেদপুর ও রানীনগর ইউনিয়নের মাঝে এই পশ্চিম চশবিলের অবস্থান। বিলের চারপাশে প্রায় পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস এই ফসলের মাঠ। এই বিলের সবচাইতে বেশি জমি রয়েছে সৈয়দপুর গ্রামের চাষিদের। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা দলিল উদ্দিন মিঞা দুলালের জমির উপর দিয়ে তাদের ফসল আনা নেয়া করতে হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রায় তিন কিলোমিটার দৈঘ্য ও চার কিলোমিটার প্রস্থের এই বিলের প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। তিন ফসলি জমিতে এখন দুটি করে ফসল আবাদ হচ্ছে। শুকনা মওসুমে পানির অভাব আর বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্ঠি হচ্ছে। এতে পুরা ফসলের মাঠ কচুরি পানায় ভরে থাকছে। শুস্ক মওসুমে কচুরী পানা সরিয়ে অনেক কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে কৃষকদের। আর এ কারণে ফসল উৎপাদনে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। উৎপাদিত ফসল আনা নেয়ার জন্য বিলে নেই কোন যাতায়াতের ব্যবস্থা। ফসলের মাঠের আইল ধরে অনেক কষ্ট করে ফসল আনতে হয়। সম্প্রতি একটি চক্র অসহায় কৃষকদের সুযোগ নিয়ে ফসলের মাঠে মাছ চাষের জন্য পুকুড় খনন করছে। এতে ওই অঞ্চলের পরিবেশে বিরুপ প্রভাব পড়ছে, কমছে ফসলী জমি।
স্থানীয় কৃষক আফজাল হোসেন খান বলেছেন, আমাদের কষ্টের শেষ নাই। অনেক কষ্ট করে ধান কেটে বাড়িতে নিতে হয়। ধান আনা নেয়ার কষ্টের কারনে আমার মত অনেক কৃষক শুধু পাট চাষ করছে। বর্ষার সময় কচুরী পানার কারনে পতিত থাকছে অনেক ফসলের জমি। এশটি নিস্কাশন খাল খনন করা হলে তিন ফসলী জমি তিন ফসলীতে পরিনত হবে। এতে স্থানীয় কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন সাধিত হবে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মোঃ দলিল উদ্দিন মিঞা বলেছেন, আমাদের সৈয়দপুর গ্রামের পাশে এই বিশাল বিল অঞ্চলে এক সময় প্রচুর পরিমান নানা রকমের ফসল উৎপাদন হতো। বিখ্যাত গাজনার বিলের পাশেই এই বিল অবস্থিতি। আজ থেকে প্রায় ২০-২২ বছর আগে এই বিলের পানি বের হয়ে যেতো। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে চারপাশে রাস্তা নির্মাণ করায় বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিত ভাবে বিলের মাঝ দিয়ে খাল খনন ও রাস্তা নির্মাণ করা হলে কৃষকরা উপকৃত হবে। একজন মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষক হিসাবে বিলাঞ্চলের এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আজহার আলী বলেছেন, কৃষকদের সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সব সময় কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরে দেশে আর কোন ফসলের জমি পতিত রাখা যাবেনা। ওই বিল এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সংসদ সদস্যর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিলের পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থাসহ কৃষিজপণ্য আনা নেয়ার জন্য একটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে নিস্কাশন খাল খনন করা হবে।
সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য ১১০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সুজানগর উপজেলার সারা বাংলাদেশের মধ্যে কৃষি ফসল বিশেষ করে পেঁয়াজ, রশুন ও পাটের জন্য বেশ সমৃদ্ধ অঞ্চল। বিলের উর্বর জমিতে ধানের ভালো ফলন পাওয়া যায়। এই অঞ্চলের কৃষকরা নিজেদের চাহিদা পুরণ করে অন্য জেলায় খাদ্যশস্য রফতানি করে থাকে। এই অর্থ বছরে প্রকল্পটি অনুমোদন হলে বিল উন্নয়নসহ শহর রক্ষার মুজিব বাঁধ সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here