পিটিআই পাবনার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট সুভাষ কুমার বিশ্বাস’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ

0
55

পাবনা প্রতিনিধি : করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) পাবনা কর্তৃপক্ষ সরকারি বরাদ্দকৃত বিভিন্ন খাতের অর্থ ভূয়া বিল দাখিল করে উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে পিটিআই আইসিটি ল্যাবের কম্পিউটার মেরামত না করেই ল্যাবের সবগুলো কম্পিউটার ঢাকায় আনা নেওয়া পরিবহন ব্যয় বিল হিসাবে বিপুল পরিমান টাকা উত্তোলন করেছে পিটিআই কর্তৃপক্ষ। এই সকল অপকর্মের মূল হোতা পিটিআই পাবনার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট সুভাষ কুমার বিশ্বাস (সদ্য পদায়নকৃত সুপারিনটেনডেন্ট, নড়াইল)। তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি আর অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ। সুভাষ কুমার বিশ্বাস প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালকে নিজের বন্ধু পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অফিসে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে থাকেন। তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না।
অনুসন্ধানে জানান যায়, পিটিআই ইন্সট্রাক্টরগণ বিধি মোতাবেক লগ বুক ব্যবহার না করে সরকারি মোটর সাইকেলের তেল খরচ বাবদ বরাদ্দের সমুদয় অর্থ উত্তোলন করেছেন। সুপার স্কুল পরিদর্শনের সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে গাড়ি নিয়ে একই দিনে একাধিক স্কুল পরিদর্শন করায় প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
বিগত ও চলতি অর্থ বছরে অফিস স্টাফ ও ইন্সট্রাক্টরদের ভ্রমন ভাতার উদ্বৃত্ত প্রায় লক্ষাধিক টাকার ভুতুরে বিল জুন মাসে উত্তোলন করায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। পিটিআই সুপার প্রতি অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দকৃত সমুদয় অর্থই অফিস স্টাফদের সহযোগিতায় ভূয়া বিলের মাধ্যমে তুলে পকেটস্থ করেন। সারা বছর ব্যাপী বিভিন্ন ভুয়া বিল উত্তোলন করা হলেও জুন মাসে ভৌতিক বিল পাশের জন্য ট্রেজারীতে দৌড়ঝাপ শুরু করেন কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ১৫ মার্চ-২০২০ তারিখের ৩৯ দফা অফিস আদেশে পিটিআই অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে বেসরকারি ফান্ডসমুহ প্রতিবছর অডিট করানোর সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বর্তমান সুপার নির্দেশ উপেক্ষা করে বিগত ২ব্যাচের ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে (বছরে জনপ্রতি ৩০০০ টাকা হিসাবে) প্রায় ১২ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে পুরুষ ও মহিলা হোস্টেলের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, বাবুর্চি বেতন, ভাল্ব ক্রয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বাদে বাকি অর্থ হোস্টেল সুপারদের সহায়তায় ভূয়া ভাউচার তৈরি করে আত্বসাৎ করেছেন। চলতি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ১ম ও ২য় শিফট ডিপিএড ৪১৬ জন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকের কাছ থেকে সংস্থাপন চার্জ বাবদ প্রতি মাসে জন প্রতি ২৫০ হিসাবে ৪ মাসের প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষাধিক টাকা আদায় করেন।
২য় শিফটের প্রশিক্ষণার্থীরা হোস্টেলে অবস্থান না করলেও তাদের কাছে থেকে বাধ্যতামূলক সংস্থাপন চার্জ আদায় করেন কর্তৃপক্ষ।
সুভাষ কুমার বিশ্বাস সহকারী সুপার থাকাকালীন বিগত ২০-২২ মার্চ ২০১৮ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা মনিটরিং ও সুপারভিশন বিষয়ক টিওটি প্রশিক্ষণের ৩য় ব্যাচে থানা রিসোর্স সেন্টার (টিআরসি) মিরপুর ঢাকায় অংশগ্রহন করেন।
কিন্তু মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মহোদয় ১১ নভেম্বর-২০১৯ তারিখে পত্র মারফত প্রাক-প্রাথমিক মনিটরিং ও সুপাভিশন প্রশিক্ষণের ফলোআপ জানতে চাইলে তিনি গত ২৭/১১/২০১৯ তারিখে নিজের স্বাক্ষরিত পত্রে এ ধরনের কোন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করেন নাই বলে অধিদপ্তরকে অবহিত করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা এহেন মিথ্যাচার করা এবং সরকারি অর্থের অপচয় ও তথ্য গোপন করে শিক্ষার উন্নয়নে বিঘ্ন সৃষ্টি করা চাকুরী বিধি লংঘনের সামিল।
সুপার হরহামেশাই পিটিআইয়ের মাইক্রোবাসও অফিস স্টাফদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকেন। গত ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তিনি অফিস সহকারী আব্দুল বাতেনকে উপ পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা, রাজশাহীতে অফিস আদেশে পাঠান তার স্ত্রীর (বিথীকা রানী সরকার, প্রধান শিক্ষক (চ.দা) কাঁছারপুর সপ্রাবি) বদলীর আবেদনপত্র নিয়ে।
চারু ও কারুকলা ইন্সট্রাক্টর মহিদুল হাসান বিগত ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের চার শতাধিক প্রশিক্ষণার্থীর চারু ও কারুকলা হাতের কাজ না করিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা হিসাবে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা অবৈধ পন্থায় আয় করে সুপারের সাথে ভাগভাগি করে নেন। সুপারের সাথে এমন সখ্যতার বদৌলতে ২০১৯ সালে ইন্সট্রাক্টর মহিদুল হাসান বিধি বর্হিভূত ভাবে ২১ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করেন।
তথাপি শ্রেষ্ঠ পিটিআই ইন্সট্রাক্টর বাছাই কাজে সুপার অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বাছাই ছকে মহিদুল হাসানকে ৫দিন ছুটি ভোগ দেখিয়ে পূর্ণ ৫ নম্বর প্রদান করেন (কপি সংযুক্ত)।
প্রাথমিক শিক্ষকদের ১২দিন ব্যাপী আইসিটি প্রশিক্ষণে তিনি নিম্মাননের ব্যাগ, অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করেন এবং প্রশিক্ষণ শেষে ট্রেজারী ব্যয় বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে অর্থ কেটে রেখে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আত্বসাৎ করেন।
ছেলে শুভাশিষ বিশ্বাস ২০১৮ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্বেও সুপার অবৈধ ভাবে ছেলের নামে শিক্ষা ভাতা উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন (কপি সংযুক্ত)।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালকে নিজের বন্ধু পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অফিসে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে থাকেন। ড. আবু হেনা ১৯৭৮ সালে নাটোরের রাজাপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি পক্ষান্তরে সুভাষ কুমার সাঁথিয়ার মিয়াপুর হাজী জসিমুদ্দিন হাইস্কুল থেকে তৃতীয় বিভাগে এসএসসি পাশ করেন। ড. আবু হেনা ১৯৮০ সালে এডওয়ার্ড কলেজ হতে এইচএসসি অপরদিকে সুভাষ কুমার পাবনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট হতে ২য় বিভাগে ডিপ্লোমা ইন কমার্স পাশ করেন।
এদিকে ড.আবু হেনা ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্বাবিদ্যালয় হতে বাণিজ্যে স্তনাকোত্তর (সন্মান) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৮৬ সালে ব্যবস্থাপনায় স্তনাকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। অপরদিকে সুভাষ কুমার বিশ্বাস ১৯৮২ সালে এডওয়ার্ড কলেজ হতে তৃতীয় বিভাগে বি,কম এবং ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২য় বিভাগে এম,কম ডিগ্রী অর্জন করেন (কপি সংযুক্ত)।
কোন প্রতিষ্ঠানেই ড. আবু হেনার সাথে সুপার তার শিক্ষাকাল অতিবাহিত না করলেও এডওয়ার্ড-৮০ বন্ধুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ধুরন্ধর সুপার সুভাষ কুমার বিশ্বাসকে ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে আলাপচারিতায় দেখা যায়। সুচতুর সুপার সুভাষ কুমার বিশ্বাস সহকারী সুপারের চলতি দায়িত্বে থাকাকালীন পাবনা পিটিআইয়ের প্রাক্তন সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মেদকে সরানোর ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে মুখ্য ভুমিকা পালন করেন।
সুপার জালান উদ্দিন আহম্মেদ ইন্সট্রাক্টর থাকাকালীন ডিভি লটারী জিতে ২০০১ সালের জুন মাসে স্বস্ত্রীক আমেরিকা গমন, জামায়াত রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ঠতাসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাকে পাবনা পিটিআই থেকে সুকৌশলে সরিয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব গ্রহন করেন।
বর্তমানে সুপার সম্পুর্ণ অবৈধভাবে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সহকারী সুপার (চ.দা) থাকাকালীন আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পাললের অনুমতি প্রাপ্ত হন। কিন্তু চলতি বছরের ২৫ র্ফেরুয়ারী সহকারি সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে ২৬ র্ফেরুয়ারী পাবনা পিটিআইতে যোগদান করেন। ফলে বিধি মোতাবেক তার আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব বহাল থাকার সুযোগ নাই। কিন্তু তিনি পুনরায় আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে সকল দাপ্তরিক কাজের সাথে অর্থ বিলেও স্বাক্ষর করে যাচ্ছেন। যে কোন সরকারী কর্মচারী নির্মাণ ব্যয়ের প্রয়োজনীয় অর্থের উৎসের উল্লেখ পূর্বক নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করে ব্যবসায়িক বা আবাসিক উদ্দ্যেশে ইমারত নির্মাণ করার সরকারী বিধান থাকলেও সুপার কোনরুপ অনুমতি ছাড়াই সরকারি বিধি লংঘন করে পাবনা শহরের শালগাড়ীয়া মহল্লায় জমি ক্রয় করে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বাড়ি নির্মান সম্পন্ন করে ভাড়া প্রদান ও বসবাস করছেন (কপি সংযুক্ত)। যা নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here