প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত বেড়া মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ প্রশংসিত সরকারি বিধি মেনেই নিলামে বিক্রি করা হয়েছে উপজেলা কমপ্লেক্সের গাছ

0
18

শফিউল আযম :
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় সকল উপজেলাতে মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে সকল মহলে। এরই অংশ হিসেবে বেড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বেড়া উপজেলা মডেল মসজিদ। উপজেলা পরিষদের কমাউন্ডের ভেতরে এ মসজিদ নির্মাণের জন্য ভরাট করা হয়েছে পুকুর। পুরো উপজেলা কমপ্লেক্স জুড়ে ও পুকুরের আশেপাশে নানা গাছের আধিক্য। একটি দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ নির্মাণ হোক, এ প্রত্যাশা সকলেরই। ফলে এটি নির্মাণ করতেই যেমন ভরাট করা হয়েছে পুকুর, তেমনি গাছও হয়েছে কাটা। সকল কিছুই উপজেলা প্রশাসনের সভায় রেজুলেশন আকারে বিধি মোতাবেক সম্পন্ন হলেও তা ভিন্ন আকারে উঠে এসেছে কয়েকটি গণমাধ্যমে, এ নিয়ে বিব্রতবোধ করেছে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তাদের ব্যাখা হলো সরকারের উন্নয়ন কাজ বাঁধাগ্রস্থ ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে সুকৌশলে একটি চক্র এমন কাজ করেছে।
ঘটনাটি নানাভাবে আলোচিত হওয়ায় সেখানে সরেজমিনে গিয়ে তথ্য উপাত্ত দেখে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে মডেল মসজিদ নির্মাণের স্থানে অবস্থান করা গাছগুলো বন বিভাগের তত্বাবধায়নে মার্কিংসহ প্রাক্কলন প্রস্তুত করে, ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা প্রাক্কলনমূল্য ধার্য্য করে সভায় অনুমোদন করা হয়। একইসাথে প্রাক্কলনসহ পরিষদের সভার রেজুলেশন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাসিক সভায় প্রেরণপূর্বক নিলামে বিক্রির অনুমোদনের জন্য প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সভায় প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ মসজিদের পশ্চিমপাশে অবস্থিত পরিষদের অভ্যন্তরের বিএডিসি এর পরিত্যাক্ত গোডাউনের ছাদের ওপরে গাছের ডাল ভেঙে পরে গোডাউনটির ছাদ ও দেওয়াল ধ্বসে পড়ার কারনে সকলকে সাবধানতা অবলম্বন করে চলতে বলা হয়। একইসাথে পরিত্যাক্ত বিএডিসির গোডাউনের ভাংগা অংশ/ধ্বংসাবশেষ উক্ত স্থান হতে সরিয়ে পরিষদের নিরাপদ জায়গাতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সভার রেজুলেশনসহ গত বছরের ৪ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী (স্মারকনং ০৫. ৪৩. ৭৬১৬. ০০০. ৫৪. ০৫৫. ২০১৯…(১৩৩৪)। এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে গাছ বিক্রির অনুমতি প্রার্থনা করে আবেদন করেন। যা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি সকাল এগারোটায় নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণস্থানসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা ১৫টি মেহগনি গাছ, ১টি আম গাছ, ১টি জাম গাছ ও ১ টি ডিমফুল গাছ অপসারনের জন্য প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বেশ কয়েকজন অংশ নেন এই নিলামে। প্রকাশ্য এই নিলামে ৫১ হাজার ৪০০ টাকা ডাক তুলে নিলামে টিকে যান বেড়ার শানিলা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রাশিদুল ইসলাম রাশু। ফলে সঙ্গত কারনেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্বাবধায়নে গত ২৩ জানুয়ারিতে রাশিদুল ইসলাম রাশুকে কার্যাদেশ প্রদান করে গাছগুলো অপসারন করতে (স্মারক নং-৪৬. ০২. ৭৬১৬. ০০০. ১৪. ০০২. ১৮. ৪৮) পত্র দেন বেড়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস। সরকারি সকল বিধি মেনে গাছগুলো অপসারন করেন নিলামে টিকে যাওয়া রাশিদুল ইসলাম রাশু। এর মাঝে করোনা শুরু হয়ে গেলে বড় পুকুরের সিড়ির পাশের দুটো গাছ আর কাটা হয়ে ওঠেনি। এরই মাঝে বড় পুকুরের সিঁড়ির দু’পাশে থাকা গাছের পাতা ঝড়ে পড়ে গোসল করার স্থানে পরে থাকার কারনে পা পিছলে আহত হন কয়েক জন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদাকে তাগিদ দেয়া হলে তিনি অতি সম্প্রতি তিনি গাছ দুই কেটে নেন। আর এনিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে যেভাবে খবর হয়ে তা উঠে এসেছে, তাতে একটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেছেন উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, সরকারি গাছ কিভাবে কাটতে হবে, কি প্রক্রিয়ায় তার এসব তো সরকারি কর্মকর্তাদের জানায় আছে। এখানে কোন ধরনের কারো অনিয়মের সুযোগ নেই। উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম জেলা প্রশাসন মনিটরিং করে, জেলা প্রশাসনের কাজও মনিটরিং করার জন্য রয়েছে উর্ধ্বতন মহল। আর এটি তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প, ফলে এখানে কোন ধরনের অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। কয়েকটি গণমাধ্যমে উপজেলা প্রকৌশলীকে জড়িয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে তার প্রকৃত সত্য বের হয়েছে তথ্যানুসন্ধানে। বেড়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস তার চাকরি জীবনে আর্থিক অনিয়মের কারনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিরাগভাজন বা বরখাস্ত হবার কোন ঘটনা ঘটেনি, সার্ভিস বুকের কোথায়ও এমন কোন কিছু উল্লেখ নেই বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা।
বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহর করে প্রথমস্থান অর্জনকারীর পুরস্কার প্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রকাশিত সংবাদ দেখে অবাক হয়েছেন তিনি, সংবাদে তার ঠিকানা বায়া গ্রাম লেখলেও মূলত তার বাড়ির ঠিকানা হলো মঙ্গলগ্রাম। সেখানে তিনতলা নয়,কাজ চলছে দ্বিতল ভবনের। তিনি জানান, তার পিতা সরকারি চাকরি করতেন। পিতা জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় সন্তান সম্পত্তির মালিক হয় না। পিতার অবসরকালীন প্রাপ্ত টাকা এবং তার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বিঘা জমি থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে এই দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। পিতার একমাত্র ছেলে হলেও, সেখানে নিজের আর্থিক সহযোগিতা খুবই নগন্য। সিএন্ডবি বাজারে তার পিতা আশির দশকে নিজের ও তার নামে রাখা (পিতাপুত্রের নামে) জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হুকুম দখলের মূল্য বাবদ প্রাপ্ত প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও সাংসারিক গচ্ছিত টাকা দিয়ে জমি কেনা হয় এবং সেখানেই ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় যা এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে সেটি তিনতলা নয়। ঢাকাতে যে তার নিজস্ব নামীয় ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে বলেছেন, এটা সম্পূর্ণই ভুয়া ও ভিত্তিহীন। এও বলেন, কোন ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার কোন টাকা নেই। এ ধরনের উদ্ভট মিথ্যা তথ্যে পরিপুর্ণ খবরের মাধ্যমে তার দীর্ঘদিনের চাকরির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা সামাজিকভাবেও কিছুটা অসম্মানের সম্মুখিন হয়েছেন বলে জানান।
অপরদিকে কাজের দক্ষতা পরিচ্ছন্নতা দায়িত্ববোধ মানব কল্যাণসহ নানামূখী পদক্ষেপে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে শুদ্ধাচার পুরস্কারহ নানা পুরস্কারে ভূষিত বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, সরকার এতো সুন্দর একটা উদ্যোগ গ্রহন করেছে। যখন সরকারের এই সুন্দর উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিরলসভাবে আমরা পরিশ্রম করে যাচ্ছি, তখন এধরনের খবর আমাদেরকে আহত করে ও কাজের স্পৃহা কোন কোন সময়ে নষ্টও করে দেয়। সকল কিছু সরকারি বিধি মোতাবেক হয়েছে, উপজেলা প্রশাসন রয়েছে, তার উপরে রয়েছে জেলা প্রশাসন, তার ওপরে আরো অনেক উর্ধ্বতন রয়েছেন। কোন নির্বাহী কর্মকর্তা ইচ্ছে করলেই তার নিজের মতো ইচ্ছে দিয়ে তো সবকিছু করতে পারেন না, এটা বুঝতে হবে। তারও কৈফয়ত দিতে হয় তো। উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য নিলামে গাছ কাটা নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্বলিত খবর দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি মনে করেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বাঁধাগ্রস্থ করতে, সরকারের এই গতিশীল কাজের ধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে একটা চক্র এ ধরনের উদ্ভট মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে। নির্বাহী কর্মকর্তা এও বলেন, এসব খুবই দু:খজনক তার জন্য, কারন তিনি বেড়াবাসীর সুখে দুখে জড়িয়ে রয়েছেন। নিজের সবটুকু চেষ্টা ঢেলে দিচ্ছেন বেড়াবাসীর কল্যাণে। শেষে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত যে কোন উন্নয়নের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ বা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে তো কোন লাভ হবে না। জেলার দক্ষ জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্বাবধায়নে আমরা মানুষের প্রত্যাশিত কাজ করে যাচ্ছি। বিভ্রান্তিকর অসত্য তথ্য পরিবেশন না করে বেড়া উপজেলা প্রশাসনকে ঘিরে যে কোন ধরনের তথ্যের প্রকৃত সত্যতা জেনে যে কোন খবর প্রকাশের জন্য বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। প্রকৃত সত্যের সমালোচনা গ্রহনে বেড়া উপজেলা প্রশাসন তৈরি আছে এবং গঠনমূলক প্রকৃত সত্য আলোচনা সমালোচনা বেড়া উপজেলা প্রশাসনকে আরো অধিকতর গতিশীল ও মানবকল্যানমূলক কাজে এগিয়ে দেবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি। একইসাথে বেড়াতে সরকারের নানামূখী উন্নয়ন কাজকে এগিয়ে দিতে গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here