বেড়ার মাসুমদিয়ার রতনগঞ্জে পাউবো’র বড়পিটে বালু উত্তোলন মুজিব বাঁধ হুমকীর মুখে

0
235

শফিউল আযম, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা ঃ
পাবনার বেড়া উপজেলার মাসুমদিয়া ইউনিয়নের রতনগঞ্জ ও আয়ানগেট এর মাঝামাঝি শ্মশান ঘাটে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় একটি চক্র শক্তিশালী মেশিনের সাহায্যে অবৈধভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড়পিটের ২০-২৫ গভীর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এলাকাবাসী ভয়ে এই চক্রের বিরুদ্ধে টুশব্দটি করার সাহস পায়না। এদিকে প্রায় চার মাস ধরে ভূগভস্থ স্তরের একই পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করায় ধসের হুমকীর মুখে রয়েছে তালিমনগর স্লুইসগেট, স্কুল এবং ঐতিহ্যবাহী মুজিব বাঁধ।
জানা যায়, পাবনা জেলাকে বণ্যমুক্ত এবং এক ফসলী জমি তিন ফসলীতে রুপান্তরিত করার লক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বেড়া নগরবাড়ীতে নিজে মাটি কেটে বণ্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এই বাঁধের নামকরণ করা হয় মুজিব বাঁধ। পরবর্তী এই বাঁধকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয় পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প। বর্তমানে সুজানগরে চলছে গাজনার বিল বহুমূখী প্রকল্প কাজ। প্রায় ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হচ্ছে পাম্পিং ষ্টেশন। বাঁধে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হওয়ায় প্রতিদিন দূরপাল্লার কোচ, ট্রাক, থ্রিহুইলার সিএনজিসহ শত শত যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রতনগঞ্জ এলাকার ফজর প্রামানিকের ছেলে শহীদ, একই এলাকার মৃত- খবির মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া, সাবেক মেম্বর খাজা খন্দকার গত প্রায় চার মাস ধরে রতনগঞ্জ ও আয়ানগেট এর মাঝামাঝি শ্মশান ঘাটে শক্তিশালী মেশিনের সাহায্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড়পিটের ২০-২৫ গভীর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট বালু উত্তোলন করছে। এছাড়া ঠিকা চুক্তিতে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির খাল পুকুর ভরাট এবং বালু বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই চক্রের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসী দলের স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা। এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে শাররীকভাবে লাঞ্চিত হতে হয়। ফলে এই বালু সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ টুকু শব্দ করার সাহস পায়না।
সূত্র জানা, ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে বালু উত্তোলন করায় ভূগর্ভে স্থাপিত পাইপের চতুরদিকে পানির সাথে বালু চলে আসে। সেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ভাবে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করায় ভূগর্ভস্তরের বিশাল এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়েছে। এরফলে ধস নামলে মুজিব বাঁধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিধ্বস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনার পর্বাঞ্চলের সাথে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়নবোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ এ প্রতিনিধিকে বলেন, বণ্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বড়পিট থেকে বালু উত্তোলন বাঁধের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। বড়পিটের যে স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তার চার পাশের এলাকা ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য প্রশাসনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here