সন্ত্রাসী হামলার ২২দিন পর আহত ছাত্রলীগ নেতার মামলা নিল পুলিশ

0
4

শফিউল আযম ঃ
সরকার সর্বহারা দমনে কঠোর অবস্থান নেয়ায় বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নে শান্তি ফিরে আসলেও আবার চরমপন্থিরা সংগঠিত হচ্ছে।পুর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি কিনতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার কাছে ফোনে ১০ হাজার টাকা চাঁদার দাবিতে ২৬ জুন রাতে হাতুরি ও রড দিয়ে পিটানোসহ ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতার ভাই মোঃ আবু হানিফ আমিনপুর থানায় অভিযোগ দিলে ওসি ২২ দিন ধরে নানা লুকোচুরির পর সংবাদকর্মীর হস্তক্ষেপে রবিবার রাতে অবশেষে মামলা এন্ট্রি করেছে।থানা পুলিশের মামলা নিতে নানা টালবাহানায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশী ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জানা গেছে, ঢালারচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার কাছে গুলি কেনার জন্য পুর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির ক্রসফায়ারে নিহত নেতা জুলহাসের সাগরেদ বলে পরিচিত দুল্লার নেতৃত্বে শাহীন ,রাকিব,শরিফ গংরা ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। যা অডিও রেকর্ড রয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ রানা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।মাসুদ রানা গত ২৬ জুন রাতে মিরপুর হাট থেকে বাড়ি ফেরার পথে মমিনের দোকানের সামনের কাচা রাস্তায় এলে মোঃ মমিন সরদার ,শাহীন মন্ডল,রহিম মন্ডল,হাবিব মন্ডলসহ ১০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তাকে রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটানোসহ কপালের উপর ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে।তাকে বেড়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তার ভাই মোঃ আবু হানিফ আমিনপুর থানায় ২৭ জুন অভিযোগ দায়ের করেন।আমিনপুর থানার ওসি মামলা নিতে লুকোচুরি করতে থাকেন।বাদি যতবারই আমিনপুর থানার ওসির সাথে দেখা করছেন ততবারই নিচ্ছি নিচ্ছি করে সময় পার করেন। বাদি আবু হানিফ রবিবার বিকেলে আমিনপুর থানার ওসিকে ফোন করলে তিনি আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে বলেন। এদিকে রবিবার সকালে এ প্রতিবেদক আমিনপুর থানার ওসি তদন্ত সবুজ রানাকে ফোন দিলে তিনি মামলা হয়েছে বলে জানান। এদিন বিকেলে এ প্রতিবেদক আমিনপুর থানার ওসি মোঃ রওশন আলীকে ফোন দিয়ে মামলা হয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান আমি বলতে পারছি না।ওখানে অরও একটি মারামারি হয়েছে সে মামলা হয়েছে। মামলার বাদি আবু হানিফকে আপনি রবিবার (১৮জুন) বিকেলে ফোনে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে বলেছেন এখন কেন বলছেন মামলা হয়েছে কি না বলতে পারছি না। মামলা না নেয়ার কারণ কি ? আর মামলা নিয়ে এত লুকোচুরি করছেন কেন তাহলে বিষয়টা পুলিশ সুপারকে জিজ্ঞাসা করতে হবে এ কথা বললে ওসি মোঃ রওশন আলী যেন থমকে গিয়ে বললেন পুলিশ সুপার সাহেব জানালে অন্যরকম হবে। এরপর রবিবার রাতেই আমিনপুর থানার ওসি ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কোরবান আলী সরদারকে ফোন দিয়ে বাদি ছাত্রলীগ নেতার ভাইকে থানায় আসতে বলেন। তিনি থানায় এলে ওসি মোঃ রওশন আলী মামলা না নেয়ার ঘটনা কেন সাংবাদিককে জানানো হয়েছে বলে চোটপাট নেন। অবশেষে রাতে মামলা এন্ট্রি করা হয়। মামলা নং-২৩ তারিখ-১৯-৭-২১। সন্ত্রাসী হামলার শিকার ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার মামলা নিতে থানা পুলিশের রহস্যজনক আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সুষ্টি হয়েছে। ঢালারচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার কয়েকবার ওসি মোঃ রওশন আলীকে ফোন করেও মামলা এন্ট্রি না করায় তিনি ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এদিকে এলাকার একাধিক সুত্র জানিয়েছে ঢালারচরের সর্বহারা উচ্ছেদের পর বেশ কিছুদিন এলাকায় শান্তি ফিরে আসলেও এখন আবার অশান্ত হয়ে উঠছে।এলাকাবাসী চরমপন্থিরা সুসংগঠিত হবার আগেই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here