বাংলাদেশে জি-নেটওয়ার্কের সকল চ্যানেল বন্ধ করার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করেছে’। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রথমত সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি। সরকার প্রচলিত আইন প্রয়োগ করেছে। ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬-এর উপধারা-১৯(১৩) অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিদেশি কোনো চ্যানেলে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি নেই। শুধু দেশীয় বিজ্ঞাপন নয়, কোনো ধরনের বিজ্ঞাপনই দেখানো যায় না। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের আইন। বাংলাদেশ ছাড়াও একই ধরনের আইন ভারতে, যুক্তরাজ্য, কন্টিনেন্টাল ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে রয়েছে। সেসব দেশে এই আইন মানা হয়। তবে আমাদের দেশে এই আইনটি মানা হচ্ছিল না”
ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এই আইনটি মানা হচ্ছিল না। আগে আইনটির প্রয়োগ করা হয়নি। এটি না করার কারণে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো যে বিজ্ঞাপন পেত সেই বিজ্ঞাপনের বড় একটা অংশ চলে গেছে ভারতে’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পেলাম ডাউনলিংক করে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় তখন আমরা নোটিশ দিয়েছি। আমরা কোনো চ্যানেল বন্ধ করিনি। সরকার কোনো চ্যানেল ডাউনলিংক করে না, যারা করে তারাই বলতে পারবে এগুলো কেন বন্ধ হয়েছে। আমরা নোটিশ দিয়ে সাতদিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলেছি। সাতদিনের মধ্যে জবাব দিক, এরপর জবাব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

এদিকে মঙ্গলবার জি-নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো দেখা যাচ্ছে না বলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার দর্শকরা জানিয়েছেন। কয়েকটি ক্যাবল টেলিভিশন অপারেটরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক নির্দেশনার পর এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। ক্যাবল অপারেটররা জানান, সোমবার জি-নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো বন্ধের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরই সারা দেশে জি টিভি, জি বাংলা, জি বাংলা সিনেমা, জি সিনেমা ও জিং, জি অ্যাকশন, জি বলিউডসহ এই নেটওয়ার্কের সব টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।