‘সাপ নয়, স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখি থেকে ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস’

0
17

সারাবিশ্ব কাঁপছে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে। চীনে ইতোমধ্যে তা মহামারী আকার ধারণ করেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৬ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

চীনের ২৯টি প্রদেশ সহ বিশ্বের আরও ১৩টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরও একজনের দেহে করোনার সন্ধান পাওয়া গেছে।

চীনের দুই প্রজাতির সাপ থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে এর আগে দাবি করেছিলেন সে দেশের একদল গবেষক। যদিও করোনা মহামারীর নেপথ্যে সাপই দায়ী কি-না, নতুন করে সেই প্রশ্ন তুলেছেন একদল গবেষক।

এদেরই একজন ব্রিটেনের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট ডেভিড রবার্টসন। তার দাবি, স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিই যে নতুন এই করোনা ভাইরাসের বাহক, তার প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু সাপ এই ভাইরাসের বাহক, এমন প্রমাণ মেলেনি। ফলে সাপের থেকে মানুষের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, একথা বলার মতো কোনও প্রমাণ নেই। যে কারণে এই পরিস্থিতির জন্য সাপকে দায়ী করা যায় না।

বিখ্যাত জার্নাল‘ন্যাচার’কে এমনটি জানিয়েছেন গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক। তবে ঠিক কোন প্রাণী থেকে নতুন প্রজাতির এই করোনা ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়াল, তা এখনও অজানাই রয়ে গেছে বলে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।

রবার্টসনের এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলো’র ভাইরোলজিস্ট এডুয়েরডো ব্র্যানডাও। তার মতে, একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখির মাধ্যমেই নতুন এই করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে। তারাই এর বাহক। ফলে সাপকে এই মহামারীর জন্য দায়ী করা যায় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাস জুনোটিক। অর্থাৎ এই ভাইরাস পশুর দেহ থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি সিফুড এবং বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে অজ্ঞাত কোনও প্রাণীর দেহ থেকে সেটি মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছিল, চীনসহ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মূল উৎসই হচ্ছে বিষধর চীনা সাপ ক্রেইট এবং কোবরা সাপ। কিন্তু তার কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

করোনা ভাইরাস বাতাসে মিশে প্রাথমিকভাবে স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখির শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ করে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে চিনের হুয়ান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসের বিষয়টি সামনে আসে, যা খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here