চাটমোহরে লিচুর বাম্পার ফলন;কৃষকের মুখে হাসি 

0
234

নিজস্ব প্রতিনিধি:পাবনার চাটমোহরে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই লিচু বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এবার মৌসুম শেষ পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে লিচু প্রায় ২ কোটি টাকা বিক্রি হবে বলে চাষীদের ধারণা। চাটমোহরে লিচু গ্রাম হিসেবে খ্যাত উপজেলার রামচন্দ্রপুর,জালেশ্বর, নতুনপাড়া, মন্ডলপাড়া, গুনাইগাছা, মল্লিকচক, পৈলানপুর,” জাবরকোল গ্রাম। এ কয়েকটি গ্রামের মাঠের পর মাঠ আবাদ হয়েছে লিচু। তাছাড়া খৈরাশ, বামনগ্রাম, মহেষপুর, হরিপুর, কাটাখালী গ্রামে লিচুর চাষাবাদ রয়েছে। গত বছর শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে লিচুর বাগান লন্ডভন্ড হয়ে বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। বড় বড় বাগান বিক্রি হয়েছিল ২০/২৫ হাজার টাকায়। এবার সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রতি বাগানে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে লিচু। যেন লিচুতে গাছ ভরে গেছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ৩৪০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। প্রতি বছর এ এলাকায় লিচু চাষ বেড়েছে ২০/২৫ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ হাজার মেট্রিকটন। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হওয়ায় এবার ফলন বাম্পার হয়েছে। চলতি বছরে প্রাকৃতিক কোন ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় লিচু চাষীরা উচ্চ দামে বাগান বিক্রি করছেন। গত বছরের তুলনায় এবার লিচু বিক্রি করে চাষীরা লাভবান হয়েছেন। লিচু চাষী ও গুনাইগাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক খলিলুর রহমান জানান, এ অঞ্চলে ব্যাপক পরিমানে লিচুর চাষাবাদ হলেও সর্বপ্রথম কে লিচুর চাষাবাদ করেছিল তার সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারেনি। তবে যতটুকু জানা যায়, উপজেলার মন্ডলপাড়া গ্রামের প্রয়াত খোকা মন্ডল নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৪৫ বছর পূর্বে প্রথমে লিচুর বাগান করেন। তার ঐ ধারাবাহিকতায় পর্যায় ক্রমে লিচু আবাদের চাষাবাদ বাড়তে থাকে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বানিজ্যিক ভাবে লিচু চাষাবাদ হচ্ছে। এ অঞ্চলের দেশি লিচু চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। লিচু চাষীরা জানান, এখানকার লিচু বাগান ২০ হাজার থেকে ৪/৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। লিচু চাষী ওয়াজেদ আলী মাষ্টার, লিয়াকত আলী পিন্টু জানায়, এ মৌসুমে লিচু রক্ষা করতে রাতভর পাহাড়া দিতে হয়। অন্যস্থায় বাদুরের ঝাঁক এসে লিচু খেয়ে সাবার করে ফেলে। বাগান মালিক জহুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, শফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, আল বিন মাসুদ, শামসুল আলম, গোলাম মোস্তফা, আব্দুল কুদ্দুস, রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই লিচু বাগান বিক্রি সফলতা পেয়েছেন বলে জানান।ব্যাপারী আবুল হোসেন জানায়, চলতি বছরে এ অঞ্চল থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারী এসে লিচু কেনার জন্য ভীড় জমাচ্ছে। প্রতিদিন ট্রাক ট্রাক ভর্তি লিচু ব্যাপারীরা কিনে খুননা, বাগেরহাট, যশোর, চট্টগ্রাম, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। এবার নিম্ন শ্রেণীর লিচুর হাজার ১ হাজার থেকে ১২’শ টাকা এবং ভালো মানের লিচু ১৬’শ থেকে ১৭’শ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনী জানায়, লিচু চাষ করে এ অঞ্চলে চাষীরা লাভবান হচ্ছেন, প্রতি বছর লিচুর চাহিদা বাড়ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here