পদ্মা ও যমুনার চরের লাউ চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে

0
131

শফিউল আযম, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা:কনকনে ঠান্ডায় লাইসহ নানাজাতের তরিতরকারিই যেন শীতের বিশেষ উপহার। খনার বচনে আছে লাউয়ের বন্দনা, ‘উঠান ভরা লাউ-শসা, ঘরে ঘরে লক্ষীর দশা’। লাউ নিয়ে গান গাওয়ায় বাংলার বাউলদের ভালোবাসা প্রকাশ পায় সেকথা সবারই জানা। বাঙালির খাদ্য তালিকায় লাউয়ের কদর অনেক। কত কিছু দিয়েই তো লাউ রান্না করা যায়। কচি লাউ- ইলিশ মাছ কিংবা চিংড়ি দিয়ে। এসব খাবারে অরুচি আছে এমন বাঙালি পাওয়া ভার।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাবরা-সিরাজগঞ্জ জেলার পদ্মা যমুনার চরআড়ালিয়া, গোসাইবাড়ি, কোদালিয়া, সাঁড়াশিয়া, চরসাফুল¬া, চরনাগদা, চরঢালা, চরকল্যানপুর, পূর্বশ্রীকন্ঠদিয়া, পদ্মারচর, চরযমুনা, বাইরচর, শ্রীপুর, খিদ্রদাশুরিয়া, মুরাদপুর, বরাংগাল, ঘোড়জান, মেঘাইরচর, খাসকাউলিয়া, মিনারদিয়াচর, ওমরপুরচর, পয়লারচর, বানতিয়ারচর, মীরকুটিয়ারচর, রস্তমেরচর, সোলজানারচর, দইকান্দিরচর, চরআগবাঙলা, শিমুলকান্দি, বারোপাখিয়ারচর, ধীতপুর, কুশিরচর, ভুমোরিয়া, চাঁমতারা, শিংঘুলি, নয়াহাটাবরংগাইল, ভারদিঘুলিয়া, চরবলরামপুর, চরভাড়ারা, সাদিপুর, সুদিরাজপুর, আশুতোষপুর, কোমরপুর, বীরপুর, পীরপুর, চালাকপাড়া, হঠাতপাড়ারসহ প্রত্যন্ত চর এলাকায় এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি শীত লাউয়ের আবাদ হয়েছে। এখন মাঠে যেমন সবুজের সমারোহ, জেলা উপজেলার ও ইউনিয়নের হাট-বাজারগুলো ভরে যাচ্ছে শীতের সবজি লাউয়ে। বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজার দর ভাল হওয়ায় লাউ চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। চাষিরা জানান, বাজার দর পড়ে না গেলে অন্তত তিন শতাধিক লাউ চাষির ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে।

জানা যায়, গতবার উৎপাদিত ধানের দাম কম থাকায় স্থানীয় কৃষকরা এবার অধিক জমিতে শীতে লাউ চাষ করেছেন। লাউয়ের প্রত্যাশিত বাজার দর এবং অনুকুল আবহাওয়ার কারণে পদ্মা-যমুনার চরে লাউয়ের চাষ বেশি হয়েছে। উৎপাদন খরচ এবং আবহাওয়া দুটোই কৃষকের অনুকুলে থাকায় প্রয়োজনীয় পরিচর্যার কারণে লাউয়ের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক। পদ্মা-যমুনার চরের প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। লাউ চাষে তেমন খরচ নেই বলে এতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেক কৃষক।

যমুনার বুকে জেগে ওঠা ওমরপুরচর, পয়লারচর, বানতিয়ারচর ও মীরকুটিয়ারচর সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লাউ চাষে সফল কৃষক ছামাদ সরকার, আলেক ব্যাপারী, জলিল খাঁ, তারা মিয়া আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন। লাউ চাষি জলিল খাঁ জানিয়েছেন, এবছর তিনি এক একর জমিতে লাউ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আশা করছেন, আরো প্রায় ৬০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়া তিনি দুই বিঘা জমিতে শিম, বেগুন ও মরিচের চাষ করেছেন। আলেক ব্যাপারি জানালেন, এবার লাউয়ের বাজার খুব ভাল। প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের একটি লাউ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দাম অব্যাহত থাকলে লাউ চাষিদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে। বদলে যাবে জীবনযাত্রার মান।

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মসকর আলী জানিয়েছেন, লাউ উৎপাদনে সেচ, সার ও শ্রমিক খরচ কম হওয়ায় এবং পোকা-মাকড় খুব ক্ষতি করতে না পারায় কৃষকরা  ব্যাপকভাবে শীত লাউ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। এবার শীত লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। পদ্মা-যমুনার চরে উৎপাদিত শীত লাউ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here