পাবনায় মুলকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

0
170

শফিউল আযম, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা:দেশের পেঁয়াজ ভান্ডার খ্যাত পাবনা জেলায় এবার মুলকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। হাট-বাজারে নতুন পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় দাম কমেতে শুরু করেছে। আসছে। এতে ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসছে।পাবনা কৃষি স¤প্রসারন অধিদফতর (খামার বাড়ী) সূত্রে জানা যায়, পাবনার মুলকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধরন করা হয়েছিল আট হাজার হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে সুজানগর উপজেলায় দুই হাজার হেক্টর, সাঁথিয়ায় দুই হাজার ৫০০ হেক্টর, পাবনা সদরে এক হাজার হেক্টর, ঈশ্বরদীতে ৫০০ হেক্টর, বেড়ায় ৪০০ হেক্টর, ফরিদপুরে ২০০ হেক্টর, চাটমোহরে ৫০০ হেক্টর, ভাঙ্গুড়ায় ৩০০ হেক্টর ও আটঘড়িয়ায় এক হাজার হেক্টর জমিতে মুলকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। তবে পেঁয়াজের বাজার দর চড়া থাকায় আবাদ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয় সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলায়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় আগাম মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু অনুকূল আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। বণ্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চরের কৃষকরা মুলকাটা পেঁয়াজ আবাদ করেছে। চরের বেলে দোআঁশ মাটিতে তারা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন পেয়েছে।

সুজানগর উপজেলার চরমানিকদীর গ্রামের কৃষক রজব আলী জানান, এবার মূলকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার পানিতে চরাঞ্চলের জমিতে পলি জমে মাটির উর্বর শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে ৬০ থেকে ৭০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। একই এলাকার কৃষক আসলাম উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, এবার আমি পাঁচ বিঘা জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদ করেছি। ইতিমধ্যে এক বিঘা জমি থেকে কিছু পেঁয়াজ তুলেছি তাতে অত্যন্ত ভাল ফলন পাওয়া গেছে। তাছাড়া বর্তমানে হাট-বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশ ভাল। স্থানীয় হাট-বাজারে মুলকাটা পেঁয়াজ প্রতিমণ পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা দরে।

বেড়া উপজেলারবেড়া উপজেলার চরনাগদা গ্রামের পেঁয়াজ চাষী সাইফুল ইসলাম জানান, গত সপ্তাহ থেকে চরাঞ্চলের জমিতে আবাদ করা মূলকাটা পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়েছে। আগামী ১০/১২দিনের মধ্যে পুরোদমে পেঁয়াজ তোলা শুরু হবে। সিঅ্যান্ডবি চতুর বাজারের আড়তদার আবুল কালাম বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার দর আরো কমে যাবে। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ মূলকাটা পেঁয়াজ পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহে মধ্যে পেঁয়াজের দাম মণপ্রতি এক থেকে দুই হাজার টাকা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা কমে যাবে। এই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায় না বলে তিনি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here